পেট ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া, খিঁচুনি, রক্তস্বল্পতা, বাচ্চার রাতে ঘুম না হওয়া— বিস্তারিত কমেন্টে..
পেট ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া, খিঁচুনি, রক্তস্বল্পতা, বাচ্চার রাতে ঘুম না হওয়া—
এই সমস্যাগুলো আমরা খুব সাধারণ মনে করি।
গ্যাস্ট্রিক, দুর্বলতা, “শিশু তো এমনই হয়” বলে এড়িয়ে যাই।
কিন্তু অনেক সময় এর পেছনে থাকে পরজীবী (parasite)।
টিনিয়া সোলিয়াম (শূকরের ফিতা কৃমি):-
অনেকে গ্রামে বা বাইরে আধা-সেদ্ধ মাংস খেয়েছেন। তখন ভাবিনি, কিন্তু সেখান থেকেই বিপদ ঢুকতে পারে।
এই কৃমির দুই রকম সমস্যা হয়—
১) অন্ত্রে কৃমি হলে (Taeniasis):
→ পেটে ব্যথা
→ খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া
→ শরীর দুর্বল লাগা
২) কৃমির ডিম শরীরে ছড়িয়ে পড়লে (Cysticercosis):
সবচেয়ে ভয়ংকর যখন মস্তিষ্কে যায়—
→ খিঁচুনি (অনেক সময় প্রথম লক্ষণ)
→ মাথা ব্যথা
→ মাথার ভেতরে চাপ বেড়ে যাওয়া
→ পানি জমা (Hydrocephalus)
অনেক রোগী প্রথম খিঁচুনি নিয়ে এসে জানতে পারেন, সমস্যাটা আসলে কৃমির।
চিকিৎসা আছে, কিন্তু সময়মতো ধরা জরুরি।
অ্যাস্কারিয়াসিস (গোল কৃমি)
এই কৃমিটা আমাদের দেশে খুবই পরিচিত।
মাটি, অপরিষ্কার সবজি, ঠিকমতো হাত না ধোয়া—এগুলোই পথ।
শরীরে ঢুকে কৃমিটা এক অদ্ভুত ভ্রমণ করে—
অন্ত্র → ফুসফুস → আবার অন্ত্র।
অন্ত্রে থাকলে:
→ পেটব্যথা
→ বাচ্চাদের পেট ফুলে যাওয়া
→ খাবার হজম না হওয়া
→ কখনো অন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়া
ফুসফুসে গেলে:
→ কাশি
→ শ্বাস নিতে কষ্ট
→ হাঁপানির মতো উপসর্গ
→ রক্তে ইওসিনোফিল বেড়ে যাওয়া
কখনো পিত্তনালী বা প্যানক্রিয়াসে ঢুকে বড় বিপদও ঘটায়।
ফ্যাসিওলা হেপাটিকা (লিভার ফ্লুক)
খাল-বিলের শাক, পানিতে জন্মানো সবজি—ঠিকমতো না ধুয়ে খেলে এই পরজীবী ঢুকতে পারে।
এটা লিভার আর পিত্তনালিতে থাকে।
লক্ষণগুলো :—
→ ডান পাশে পেটের ওপর ব্যথা
→ লিভার বড় হয়ে যাওয়া
→ জন্ডিস
→ বারবার পিত্তনালির ইনফেকশন
দীর্ঘদিন থাকলে লিভারে স্থায়ী ক্ষত তৈরি করতে পারে।
এমনকি ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ায়।
পিনওয়ার্ম (Enterobius vermicularis)
সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ—
→ রাতে ঘুমের সময় পায়ুপথে অসহ্য চুলকানি
আরও হতে পারে—
→ ঘুম ঠিক না হওয়া
→ মনোযোগ কমে যাওয়া
→ ছোট মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রস্রাব বা যোনিপথে জ্বালা
একজন হলে পুরো পরিবারকে একসাথে ওষুধ দিতে হয়।
হুকওয়ার্ম (Ancylostoma)
খালি পায়ে মাটিতে হাঁটার কথা মনে আছে?
সেখান থেকেই এই কৃমি ত্বক ভেদ করে শরীরে ঢোকে।
এরা অন্ত্রে লেগে থেকে রক্ত শোষণ করে।
ফলাফল—
→ রক্তস্বল্পতা
→ সবসময় ক্লান্তি
→ মাথা ঘোরা
→ ফ্যাকাশে চেহারা
অনেক সময় বোঝাই যায় না কেন এত দুর্বল লাগে।
এগুলো আমাদের চারপাশে আছে, আমাদের মানুষকেই আক্রান্ত করে।
পরিষ্কার হাত, নিরাপদ খাবার, ভালোভাবে রান্না করা খাবার—
এই ছোট বিষয়গুলোই বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে।
আর যদি লক্ষণগুলো নিজের বা কাছের কারও সাথে মিলে যায়—
লজ্জা না করে ডাক্তারের কাছে যান।
এই লেখাটা শেয়ার করুন।
হয়তো কারও অজানা সমস্যার কারণটা আজ বুঝে।
©
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment